তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনা কিংবা কোনো যুদ্ধের অজুহাতে পণ্যের মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ালে, সংকট না থাকলেও সংকট সৃষ্টি করলে, সেই অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমসাময়িক প্রসঙ্গে একথা বলেন। 


তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা গত কয়েকদিন ধরে দ্রব্যমূল্য নিয়ে কথা বলছেন। করোনা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে সমগ্র পৃথিবীতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশে সরকার পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে। যে সব অসাধু ব্যবসায়ী কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সুযোগ নিয়ে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেন, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারণ কোনো দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়া কোনো সৎ ব্যবসায়ীর কাজ নয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেবরা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন সারের দাবিতে যখন মানুষ বিক্ষোভ করেছে, তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে, কৃষকের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে, মানুষ না খেয়ে মারা গেছে। এর তুলনায় বাংলাদেশে সমস্ত মানুষ আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে। তখন  শুধু যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদের উন্নয়ন হয়েছে। আজকে প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে।

ড. হাছান বলেন, এখন দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬শ’ ডলার । আমরা যখন ২০০৯ সালে  সরকার গঠন করেছিলাম, তখন দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিলো ৬শ’ ডলার মাত্র। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে মানুষের মাথাপিছু আয় গত ১৩ বছরে সাড়ে চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৩ বছর আগে একজন শ্রমিক সারাদিন কাজ করে তিন-চার কেজি মোটা চাল কিনতে পারতেন, এখন একজন শ্রমিক সারাদিন কাজ করে সেই চাল ১২ থেকে ২০ কেজি কিনতে পারেন। অর্থাৎ আগের চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি চাল কিনতে পারে। তাই মির্জা ফখরুল সাহেবদের বলবো যে, আপনারা বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য আর তারেক জিয়ার শাস্তির মধ্যে আটকে থাকা থেকে আপনাদের রাজনীতিটাকে মুক্ত করুন এবং এইরকম বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে গত ১৩ বছরে কয়েক দশকে যেভাবে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে, এটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য সত্যিই একটি উদাহরণ। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক নারী হবেন এটি আগে কেউ ভাবেনি। সংবাদপত্রের পাশাপাশি টেলিভিশন, রেডিও এবং অনলাইনে বহু নারী এখন কর্মরত। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার মনে করে, দেশের অগ্রগতির জন্য নারী অগ্রগতি আবশ্যক। সে কারণে তার নেতৃত্বে নারীর উন্নয়ন ও প্রগতির সুফল পাচ্ছে দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছেন, যদি আগের সরকার প্রধানরা একইভাবে কাজ করতেন, তাহলে বাংলাদেশের নারীরা আরো এগিয়ে যেতে পারতো।