ফজলে সাব্বি সোহান: কর্ম মানুষ কে সুন্দর করে ,কর্ম মানুষ কে অন্যের নিকট সমাজের নিকট উপস্থাপন করে । কর্ম সত্য সুন্দর আদর্শিক হলে মহাকাল বা সময়ের বহমানতায় ব্যক্তির চেতনা হয় আদর্শিক। এই আদর্শিক মহা কাব্যিক ব্যক্তিই সর্বসাধারনে বরেণ্য ভালবাসা এবং শ্রদ্ধায় সিক্ত আজীবন। এমনি একজন নীতি আদর্শ সত্য সুন্দর চেতনায় উজ্জিবিত মহা কাব্যিক সার্বসাধারনে বরেণ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যডঃ আবু মুহাম্মাদ হাসেম।

 বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যডঃ হাসেম চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় একটি সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। ছোট বেলা থেকে তিনি ছিলেন একরোখা জ্যেদি অন্যায়ে আপোসহীন ছিলেন রাজনৈতিক সচেতন। ছাত্রজীবনে আকৃষ্ট হয়েছিলেন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রতি। ধারন করেছিলেন তার মহা সংগ্রামী চেতনাকে। সেই চেতনা থেকে যোগ দিলেন ছাত্রলীগে। নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা এবং যোগ্যতা কে পূঁজি করে ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম শহর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বপান ।

 ১৯৬৬ সালে দেশবরেণ্য আওয়ামীলীগ নেতা এম এ আজিজ ও জহুর আহম্মেদের নেতৃত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কতৃক ৬ দফা, ৬৯ এর গণ আন্দোলন ৭০ এর নির্বাচন সকল কর্মকান্ডে জনমথ গ্রহন সহ সার্বিক আন্দোলন সংগ্রামে গুরুর্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একি সময়ে তিনি ১৯৬৮ সালে অভিভক্ত চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।তিনি যে একজন প্রতিভাবান এবং মেধাবী জীবন বিন্যাস পার করছিলেন তার বাস্তবিক প্রমান নিপীরনের বিরুদ্ধে চলমান নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে তার সক্রিয় উপস্থিতি পাশাপাশি নেতৃত্বদান ছাত্রজীবনে প্রভাব ফেলতে পারেনি  । ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল এল বি প্রিমিনারিতে প্রথম শ্রেনিতে দ্বীতিয় স্থান লাভ করেন ।

 ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল এল বি ফাইনাল পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৭১ সালে ঝাঁপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিযুদ্ধে।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি ১ নং সেক্টরের স্টুডেন্ট মবিলাইজার ছিলেন। তাদের কে দেশের ভিতরে গেরিলা যুদ্ধে অংশ গ্রহনের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তিযুদ্ধের জোনাল কমান্ডার হিসেবে হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও রাউজান এই চার থানার দায়িত্ব নিয়ে দেশের মধ্যে গেরিরা যুন্ধ পরিচালনা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি রাউজানের আমিরহাট পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ধ্বংস অভিযান পরিচালনা করেন এবং চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কে কয়েকটি ব্রীজ ধ্বংসে অভিযান পরিচালনা করেন।

১৯৭২-৭৩ সালে চট্টগ্রাম সংবাদপত্র ‘দৈনিক দেশবাংলা- এর প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। ১৯৮৯ সালা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট ডিভিশনে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভক্ত হন। ১৯৯০ সালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়নি। উক্ত সময়ে তিনি চট্টগ্রাম আইনজীবী ভবন তৃতীয় তলায় সম্প্রসারিত করে চেম্বার নির্মান ও বরাদ্দ প্রদান করেন। ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে তালিকাভক্ত হন। ২০০২ সালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৭-১৮ সালে রাউজান মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ছাত্র রাজনীতির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে যুক্ত।

৬ দফা, ১১ দফা, ৭০-এর নির্বাচন, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণআন্দোলন ও ১৯৬২ থেকে অদ্যাবধি সকল গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে এদেশের আইনজীবী সমাজ, গরীব কৃষক, শ্রমিক ও ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ের সকল আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভক্ত হওয়ার পর থেকে অদ্যবধি ৪৭ বছর মহান আইন পেশার নিয়মিতভাবে নিয়োজিত আছেন। শুরু থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত তিনি আইনজীবী হিসেবে সর্বদা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার আছেন।

তিনি পাথরে পাথর ঘসে অস্বার্ধ সাধন করছেন সুদীর্ঘ জিবনব্যাপি। সুন্দরের তপস্যা করছেন সাধনা করছেন আপন মহিমায়।সমাজের বাতিঘর হতে না চেয়েও কর্মে আজ বাতিঘর। তাই সৃষ্টি কর্তার নিকট প্রার্থনা বেঁচে থাকুক এই প্রমিথিউস আগুনে জীবন সংলাপে। বেঁচে থাকুক আদর্শ নতুনত্বের আলীঙ্গনে।