বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন বলেন,  চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইউনিভার্সিটি ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কোলাবরেশন  বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলোচনা করে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করা উচিত। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে।  গবেষণাধর্মী শিক্ষা অর্জন করতে না পারলে বর্তমান প্রতিযোগিতার বিশ্বে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। এধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন গবেষণামূলক কর্মকান্ডকে এগিয়ে  নিয়ে যায়।

সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশর পুরকৌশল বিভাগের উদ্যোগে অনলাইনে আয়োজিত দুদিনব্যাপী রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং  (আইসিআরআইসিই) শীর্ষক তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন-২০২২ এর সমাপণীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমি জেনে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি, সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ধারাবাহিকভাবে সফলতার সাথে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে যাচ্ছে যা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক বড় অর্জন। এখানে যারা শিক্ষকতা করছেন তাঁদের মধ্যে অনেকে সিনিয়র ও বড় মাপের শিক্ষাবিদ। আমার বিশ^াস এসব গুণী শিক্ষকদের নেতৃত্বে এই বিশ^বিদ্যালয়ের সফলতা স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে যাবে।  তরুণ গবেষকদেও উচিৎ প্রবীণদের অভিজ্ঞতাসমূহ কাজে লাগিয়ে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করা। আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করার লক্ষ্যই হলো বিশ্বের মেধাবী গবেষকদের সাথে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে জ্ঞানের আদান প্রদান করা। গত ৮ জানুয়ারি  শনিবার বিজ্ঞান  ও প্রকৌশল  অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবুল মনসুর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপণীতে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক, উপ-উপাচার্য এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সরওয়ার জাহান।  

সম্মেলনের ২য় দিনে কি-নোট সেশনে স্ট্র্যাকচারাল হেলথ মনিটরিং বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. এন এইচ এম কামরুজ্জামান সরকার। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো ছিলো স্ট্র্যাকচারাল, আর্থকোয়েক, জিওটেকনিক্যাল অ্যান্ড ফাউন্ডেশন,   ট্রাফিক অ্যান্ড  ট্রান্সপোর্টেশন, ওয়াটার রিসোর্সেস, ফ্লাড কন্ট্রোল অ্যান্ড মিটিগেশন, এনভায়রনমেন্টাল, মেটোরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ডম্যানেজমেন্ট, আরবানাইজেশন অ্যান্ড বিল্ড এনভারনমেন্ট, অ্যাডভান্সেস ইনসিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশন ইত্যাদি বিষয়ে ৩৫টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা হবে। বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং গবেষকবৃন্দ গবেষণা নিবন্ধ লিখেছেন এই কনফারেন্সের জন্য। এই কনফারেন্স উপলক্ষে দেশি   বিদেীি গবেষকদের প্রচুর গবেষণা পত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে অনেক যাচাই বাছাইয়ের পর ৩৫টি গবেষণা প্রবন্ধ নির্বাচন করা হয়েছে যা এই কনফারেন্সে পঠিত হচ্ছে এবং কনফারেন্সের প্রসিডিং বইয়ে ছাপানো হয়েছে। দুইদিনব্যাপী এই কনফারেন্সে ৩টি কি-নোট সেশন, ১টি ইনভাইট টক ও ৫টি টেকনিক্যাল সেশন উপস্থাপিত হয়। সম্মেলনে পুরকৌশল   বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ের উপর দেশ এবং বিদেশের খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞরা প্রবন্ধ উপস্থাপনের পাশাপাশি আলোচনায় অংশ নেন।