চন্দনাইশ থেকে প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে যৌতুকলোভী এক পাষণ্ড স্বামী তার স্ত্রী ও নিজ ছেলে মেয়েকে ভিটেবাড়ি ছাড়া করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় পাষণ্ড স্বামী লাঠিসোটা দিয়ে স্ত্রীকে মারধর করতে থাকে। মায়ের চিৎকার শুনে বাঁচাতে এলেন তার নিজ কন্যা সন্তান কিন্তু পাষণ্ড বাবার হাত থেকে রেহাই পায়নি মেয়েও। লোহার রড দিয়ে মেরে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে আপন মেয়েকে ও অথচ অমানবিক এ নির্যাতনের ঘটনায় মামলা নিচ্ছে না চন্দনাইশ থানা পুলিশ।

জানা যায়, যৌতুকের কারণে চন্দনাইশ উপজেলার ৪নং বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারী নিদাঘের পাড়া ৪নং ওয়াডে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়সময় পাষণ্ড স্বামী তার স্ত্রী সুমিকে নির্যাতন করতো। এ অবস্থায় আইনের আশ্রয় নেন অসহায় গৃহবধূ সুমি আক্তার। মামলা করেন চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে।

মামলায় অভিযুক্ত করা হয় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), ননদ পারভিন আক্তার ওরফে পাখি আক্তার (৪০), নাছির উদ্দিন (৪৮) ও মো. জামালক (৪৫)।

এদিকে মামলা করার পর আরও ক্ষেপে যায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ অবস্থায় বেড়ে যায় নির্যাতনের মাত্রা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ সুমি আক্তারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন স্বামী জাহাঙ্গীর আলম। টাকা এনে দিতে না পারায় গত ২০ অক্টোবর সকালে লাঠি ছোটা দিয়ে মেয়ে পাষণ্ড বাবার নিজ কন্যা সন্তান হেনা আক্তারকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে মেয়ে হেনা আক্তার এর চিৎকার শুনে মা দৌড়ে এলে তাকেও মেরে মারাত্মক ভাবে জখম করা হয়। এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে চন্দনাইশ হাসপাতালে ভর্তি করান। কর্তব্যরত ডাক্তার আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখে প্রাথমিক চিকিৎস দিয়ে  দ্রুত তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

গৃহবধূ সুমির ভাই শামীম বলেন, ১৮ বছর আগে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আমার বোনের বিয়ে হয়। আমার বোনের এক মেয়ে এবং এক ছেলে। কিছুদিন ধরে তার পাষণ্ড স্বামী জাহাঙ্গীর আলম ৫০ হাজার টাকা এনে দিতে বারবার আমার বোনকে চাপ দেয়। কিন্তু আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় সে টাকা দিতে পারবে না বলে জানায়। এরপর থেকে আমার বোন, ভাগ্নি এবং ভাগিনার ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। গত ২০ অক্টোবর সকালে আমার বোন পুকুরে গেলে ওই সময় হঠাৎ তার স্বামী, ননদ, ননদের স্বামী ও ভাসুর মিলে লাঠি এবং তক্তা দিয়ে আমার ভাগ্নি হেনা আক্তারকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। ভাগ্নির চিৎকার শুনে তার মা ঘটনাস্থলে এসে দেখে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এ সময় আমার বোনকেও বেধড়ক পেটানো হয়। নির্মম নির্যাতনে আমার ভাগ্নি হেনার ডান হাত ও ডান পা ভেঙে গেছে।

এদিকে মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুমির পরিবারের সদস্যারা। নিরাপত্তাহীনতায় দুই সন্তানকে নিয়ে এখন ঘরছাড়া গৃহবধূ সুমি। যৌতুক দাবির অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী ঐ গৃহবধূর স্বামীসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন।

এই বিষয়ে চন্দনাইশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান মামলাটি তদন্ত করছে তদন্ত কর্মকর্তা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।