বিজ্ঞাপন দেখলেই টাকা। আর কিছুই করতে হবে না। এ জন্য সদস্য আইডি কিনতে হবে ১২ হাজার ও ২২ হাজার টাকার। এর জন্য প্রতি মাসে পাবেন সাড়ে ৭ হাজার ও ১৫ হাজার টাকা। এ বছরের মে থেকে জুলাই মাসেই ২০০ কোটি টাকার বেশি গ্রাহকের কাছ থেকে নিয়েছে রিং আইডি। জুন মাসেই ১০৯ কোটি টাকার বেশি নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভাটারা থানায় এক ভুক্তভোগীর করা মামলায় শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে নানা রকম তথ্য। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, এরই মধ্যে ইভ্যালির মতো ই-কমার্সে যাওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ করেছিল রিং আইডি।

সিআইডির সাইবার শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ জানান, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী চেয়ারম্যান আইরিন ইসলাম কানাডা থেকে পুরো ব্যবসার বিষয়টি পরিচালনা করতেন। মামলার আসামি হিসেবে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, রিং আইডি প্রাথমিকভাবে একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরে তারা এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন সার্ভিস যোগ করে জনগণের কাছে থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করেছে। এসব সার্ভিসের ভেতরে রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ, কমিউনিটি জবসসহ বিভিন্ন সার্ভিস, যার আড়ালে এই আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ জনগণ এই খাতে বিনিয়োগ করেন। এর আগেও তাঁদের করোনাকালীন ডোনেশনের মাধ্যমে জনগণের কাছে থেকে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সন্দেহ পোষণ করা হয়েছিল। বর্তমানে সন্দেহের তালিকায় থাকা বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের মতো তারাও অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রি এবং ক্রেতাদের কাছে থেকে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সাইফুল জানান, এই বিপুল পরিমাণ আমানত গ্রহণের কোনো অনুমোদন তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করেনি।। এই কার্যক্রমের সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত রয়েছেন এবং এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তাঁরা কোথায়, কীভাবে সংরক্ষণ করছেন তা বিস্তারিত জানতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।

আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে যেন মানুষের কাছ থেকে আদায় করা আমানত অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার করতে না পারে, সে কারণে ইতিমধ্যেই তাঁদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছে সিআইডি।