আগস্ট-সেপ্টেম্বর এই দুই মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। বঙ্গোপসাগরে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশ।

প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ ধরা না পড়ায় অভাব-অনটনে আর হতাশার মধ্যে দিন পার করছেন উপকূলের জেলেরা।  
সংশ্লিষ্টরা বলছেন গত ৪ বছর ধরে মাত্রাতিরিক্ত হারে ইলিশের পরিমাণ কমে নেমে গেছে এক তৃতীয়াংশে।  

এদিকে আড়তদার-পাইকাররাও বলছেন, সাগরে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বেহাল দশা মৎস্য ব্যবসায়ীদের।

বঙ্গোপসাগরের চট্টগ্রাম অংশে কয়েক বছর আগেও ছিল ইলিশে সয়লাব। পাইকার-আড়তদার আসতেন বিভিন্ন জেলা থেকে। সে সময় সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত মৎস্য ব্যবসায়ীদের কেনা-বেচায় মুখরিত এ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে পা ফেলার জায়গাও ছিল না।

স্থানীয় জেলেরা জানান, ৫-৭ জন করে জেলের দল সাগরে যান। যে পরিমাণ ইলিশ পান, তা বিক্রি করে ট্রলার ও তেলের খরচের পর ৪০০-৫০০ টাকা থাকে। যা দিয়ে পরিবারের বাজারই হয় না। তবে ৪ বছরের ব্যবধানে পাল্টে গেছে এ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের চিত্র।

ইলিশের মৌসুমেও এখন আর ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন না কেউই। কিছু কিছু জেলেরা খুব কম পরিমাণ ইলিশ নিয়ে এলেও বেশির ভাগ ট্রলারই থাকে ইলিশ শূন্য।

বশার নামে এক ট্রলার মাঝি বলেন, অনেকে এনজিও ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি। সেই ঋণে টাকা ইলিশ বিক্রির টাকা দিয়ে পরিশোধ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ইলিশ ধরা না পড়ায় দেনাও শোধ করতে পারছি না আমরা।

আরেক জেলে বাচ্চু বলেন, সাগরে মাছের দেখা মেলেনি। যে মাছ পেয়েছি তাতে খরচের টাকাই ওঠেনি। এতে দৈনিক খরচের তুলনায় আয় না হওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। 

মৎস্যজীবীরা বলেন, বৈশাখ থেকে ইলিশ ধরা শুরু হলেও এবছর ভরা মৌসুমে দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষেও সমুদ্রে ইলিশের দেখা মিলছে না। সরকারি গবেষণায় ইলিশ সম্পদের বৃদ্ধি দেখালেও বাস্তবে ইলিশ শূন্য বঙ্গোপসাগর। মাত্রাতিরিক্ত হারে কমে গেছে ইলিশের পরিমাণ।

চট্টগ্রাম সমুদ্র উপকূলের প্রায় দেড় লাখ মানুষ জেলে পেশার সঙ্গে জড়িত, এদের মধ্যে ইলিশ ধরেন প্রায় ৮০ হাজার জেলে।