প্রায় ৪ হাজার বছর আগে সৌন্দর্যকে বন্দি করতে পাখি পোষার সূচনা হয়েছিল। প্রাচীনকাল থেকেই পাখি মানুষের বসতির সাথে ছিল মিলেমিশে। প্রাচীন গ্রিসে প্যারাকিট পোষা হতো। রাজাদের মধ্যেও পরস্পরকে পাখি উপহার দেওয়ার রেওয়াজ ছিলো একসময়।

যদিও এদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী খাঁচায় পাখি পোষা বা এ ধরনের ব্যবসা অনেকটাই নিষিদ্ধ। তবুও মানুষ শখের কাছে বন্দি। তাই পাখি পোষায় মনের সুখ কেনেন অনেকেই। কিছু পাখি পোষ মানে, কিছু আবার বন্য।

চট্টগ্রাম নগরীর নুপুর মার্কেটে গড়ে উঠেছে পাখির বাজার। দীর্ঘ ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে গড়ে ওঠা এই বাজারে পাখি বেচাকেনা ছিল একসময় অনেক বেশি। স্বাধীনতা পরবর্তী চট্টগ্রামে অনেক জায়গায় গড়ে উঠেছে পাখির দোকান।

এখানে রয়েছে বাজরিগার, লাভ-বার্ডস, কোকোডাইল সহ নানা জাতের পাখি। পাখির ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটানো সহ নানা পরিচর্যা ও যত্ন করে থাকেন পাখিওয়ালারা।

কোকোটাইল পাখি জোড়াপ্রতি ৫০০০, বাজরিগার পাখি ৫০০-১০০০, ফিঞ্চ ৭০০, ডায়মন্ড ডাব ১২০০,অস্ট্রেলিয়ান বাচ্চা ঘুঘু ৮০০-১০০০ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান বড় ঘুঘু ১২০০ টাকা, বাচ্চা লাভবার্ড সর্বনিম্ন ৩০০০ টাকা। জাত অনুযায়ী লাভ বার্ডের দাম ভিন্ন হয়।
তবে জানা যায় আমাদের দেশে কিছু জাতের লাভবার্ডস রয়েছে যার জোড়া প্রতি দাম পড়ে ১ লাখ টাকারও বেশি। কোয়েল ৭০-৮০, কিং পায়রা ৪০০০-৫০০০, লাক্ষা পায়রা ২০০০-২২০০, সিরাজি পায়রা ৩০০০- ৩২০০। এছাড়াও আছে তিথি মুরগি ২০০০ থেকে ১২০০, টার্কি মুরগি ১০০০ টাকা।

নুপুর মার্কেটের এই পাখির বাজারে রয়েছে নানা জাতের কবুতর। তার মধ্যে দামের সিরাজ কিং বোকরা থেকে ময়ূরপঙ্খী কিং থেকে হেলমেট নানা জাতের কবুতর পাওয়া যায় এখানে। বাজরিগার পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ যেন ক্ষণিকের জন্য ভুলিয়ে দেয় নাগরিক যান্ত্রিকতা। শিশুদের মন ভালো রাখতে এই পাখিদের জুড়ি নেই।