অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখে চলছে চট্টগ্রাম বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিতাংশবে-টার্মিনালপ্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন হতে চলেছে।

চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা-হালিশহর এলাকায় বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেঁষে নির্মাণ করা হচ্ছে এ বে-টার্মিনাল।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামো ৪৫০ একর জমির ওপর।

এদিকে মোট ২ হাজার ৫০০ একর জমিতে চলছে  বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজ।

যা চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামোর চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বড়।

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে সাড়ে মিটার গভীরতা ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে চেয়ে বড় জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না।

বে টার্মিনাল চালু হলে ভিড়তে পারবে ১২ মিটার গভীরতা ২৮০ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যরে জাহাজ।

ফলে বন্দরে প্রতিবছর যে পরিমাণ আমদানি-রফতানি পণ্য হ্যান্ডলিং হচ্ছে, বে-টার্মিনালে হ্যান্ডলিং হবে তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি।

বে-টার্মিনাল প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের দিকে এগুচ্ছে।

ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, সৌদি আরব, চীন, দক্সিন কোরিয়া সহ  বিদেশী সাতটি প্রতিষ্ঠান বে-টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে।

বে-টার্মিনাল মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।

এখন চলছে মাটি ভরাটের কাজ, মাটি ভরাট শেষে আড়াই হাজার একর জমিতে একে একে নির্মিত হবে ৩ টি জেটি পাশাপাশি প্রকল্পটির অধীনে কন্টেনার জেটি, ডলফিন জেটি, আরসিসি ইয়ার্ড, কন্টেনার শুল্ক স্টেশন, কাস্টম বন্ডেড হাউজ, রেলওয়ে ট্র্যাক, ফ্লাইওভার, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ এবং অফিস বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে।

এর মধ্যে ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে রেলওয়ে সংযোগ লাইনের কাজটি করছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।

যেকোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচকের অন্যতম মাপকাঠি ধরা হয় সেদেশের বন্দরের সক্ষমতাকে।

বে-টার্মিনাল জাতীয় অর্থনীতিতে যুগান্তকারী উন্নতি বয়ে আনবে। বে-টার্মিনাল বন্দরের দক্ষতা, সক্ষমতা গতিশীলতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

সেখানে দ্বিগুণ সাইজের এবং দ্বিগুণ সংখ্যক জাহাজবহর ভিড়তে পারবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ করে পণ্যসামগ্রী রফতানির ক্ষেত্রে বর্তমানে জাহাজের টার্ন এ্যারাউন্ড টাইম দশমিক দিনের স্থলে মাত্র ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় নেমে আসবে।

এর ফলে বন্দর-ব্যয় এবং সামগ্রিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার খরচ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

রফতানি সহজ হয়ে উঠবে, পণ্য রফতানির খরচও আগের তুলনায় কমে যাবে।

যার সুফল ভোগ করবে সমগ্র জাতি।

খোলা সমুদ্রবন্দর (ওপেন সীপোর্ট) হিসেবে বে-টার্মিনাল নির্মিত হলে হাজার বছরের চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এটি হবে বন্দরের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অবকাঠামো।

দেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের চাহিদা চাপ সামাল দিতে সক্ষম হবে বে-টার্মিনাল।

বে টার্মিনালকে ঘিরে বন্দর ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক শিপিং মহলে আগ্রহ আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

বে টার্মিনাল নির্মানের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের চেয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ঠদের।