দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থওয়েষ্ট প্রদেশর ব্রেস্টের মাবুলুকা এলাকায় রাফিউল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশিকে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে।  ব্যবসায়িক পার্টনার শরিফের বিরুদ্ধে রাফিউল হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক রাফিউল ইসলাম করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি। রাফিউল ইসলামকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাফিউলের বাবা ও তার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবাসী বন্ধুরা।

গত শনিবার (২৪ জুলাই) রাফিউল ইসলামের মৃতদেহ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাফিউল ইসলামের দেশের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায়। রাফিউল একজন হাফেজে কোরআন। 

রাফিউলের বাবা,আত্মীয়স্বজন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় রাফিউলের বন্ধুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাফিউল নর্থওয়েষ্ট প্রদেশর ব্রেস্টের মাবুলুকা লোকেশনে জাবুলা শপ নামে একটি দোকানের পার্টনার ক্রয় করেছিলেন শরিফ নামের আরেকজন বাংলাদেশীর কাছ থেকে। রাফিউল বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ টাকা এনে শরিফের সাথে পার্টনারে দোকান শুরু করে। দোকানের পাশাপাশি রাফিউল, শরিফের সাথে মিলে একজন লোকাল ইন্ডিয়ানের সাথে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের পন্য বেচাকেনাও করতেন। সেই সুবাদে রাফিউল, শরিফ ও ক্যরন নামের ইন্ডিয়ান ঐ লোকের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে।

জানা যায়, গত ঈদের একমাস আগে রাফিউল শরিফের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার মায়ের কাছে ৭ লাখ টাকা হুন্ডিতে প্রেরন করে।শরিফের কথা অনুযায়ী রাফিউল ১লাখ ২০ হাজার রেন্ড ক্যরন নামের ইন্ডিয়ান ঐ লোকের একাউন্টে ডিপোজিট করে। এরপর একমাস পার হয়ে গেলেও শরিফ নানা অজুহাতে রাফিউলের মার কাছে টাকা প্রেরন করেনি। এক পর্যায়ে এই টাকা নিয়ে রাফিউল শরিফ দ্বন্ধে লিপ্ত হয়। দ্বন্ধের এক পর্যায়ে শরিফ তার অনলাইন ব্যবসায়িক পার্টনার ইন্ডিয়ান নাগরিক ক্যরনের সহযোগিতায় ১৮ জুলাই রাতের কোন একসময় রাফিউলকে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করে নর্থ প্রিটোরিয়ার লাভেনডের রাস্তার এর কোন এক জায়গায় বাউন্ডারি দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে রাফিউলের মৃত দেহ বসিয়ে রাখে এবং ইন্ডিয়ান নাগরিক ক্যরন রাফিউলের মৃতদেহের সাথে ছবি তুলে ও ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই ক্যরন ও শরিফ মিলে রাফিউলকে হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তারের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে।

খবর নিয়ে আরো জানা গেছে, এক নাইজেরিয়ান নাগরিকের সহযোগিতায় শরিফ হাসপাতালের ডাক্তারকে ম্যানেজ করে প্রাথমিক ভাবে করোনায় রাফিউলের মৃত্যু হয়েছে বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে।

কিন্তু, হত্যাকান্ডের এক সপ্তাহ পর রাফিউল হত্যার সাথে শরিফের জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে দক্ষিন আফ্রিকায় স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে বিষয়টি তদান্তধীন রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলেই রাফিউল হত্যার সাথে ফেঁসে যাচ্ছে শরিফ ও তার অনলাইন ব্যবসায়িক পার্টনার ক্যরন।

উল্লেখ্য, চলতি জুলাই মাসের ১৯ তারিখ করোনায় আক্রান্ত হয়ে, প্রিটোরিয়া শহরের নর্থ প্রিটোরিয়ার ওবারো রেভেন্ডের সড়ক এ করোনা আক্রান্ত একজন বাংলাদেশী রাস্তার পাশে পড়ে আছে বলে সামাজিক যোগাযোগ ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা সেই বাংলাদেশী মানিকগঞ্জের রাফিউল ইসলাম। রাফিউল ইসলাম করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি, তাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন মৃতের বাবা। ব্যবসায়িক পার্টনার শরিফের বিরুদ্ধেই রাফিউল হত্যার অভিযোগ উঠেছে।