গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে আদালত অবমাননার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে তাঁর অনুসারীরা। চলমান আন্দোলন রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাঁদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৫ জন। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ৮০০ জন। 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাওয়াজুলু নাটাল প্রদেশে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২৬ জন। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ গাউটেংয়ে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১৯ জন। এছাড়া সোমবার রাতে সোয়েটো শহরের একটি শপিং সেন্টারে লুটপাট চালানোর সময় নিহত হন ১০ জন।  

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মাঠে নেমেছে। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ১৯৯০ সালের পর এই সহিংসতাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সংঘটিত সবচেয়ে বড় সহিংসতা বলে উল্লেখ করেছেন। 

সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলে ভাষণ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,  দক্ষিণ আফ্রিকার গণতন্ত্রে এই বিক্ষোভ একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি অধ্যায়। এর আগে দেশের কোনো আন্দোলন-বিক্ষোভে এ ধরনের প্রবণতা দেখা যায়নি।’ 

দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, চলমান বিক্ষোভে পুরো দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে ব্যাপক মাত্রায় লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে কাওয়াজুলু নাটাল, গাউটেং প্রদেশ ও দেশটির বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গে। 

সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার করোনার টিকা প্রয়োগ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা কিছু জায়গায় টিকা লুট করেছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। 

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, ‘আমাদের টিকা প্রয়োগ কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে।’ 
  
উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট জুমা ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটির সামনে তাঁকে বসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু জুমা সেখানে যাননি। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তির রায় দেন আদালত। গত সপ্তাহ থেকে ১৫ মাসের সাজা ভোগ করতে শুরু করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা।