আদালত অবমাননার দায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা (৭৯) কারাভোগের ঘটনার বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন তার অনুসারীরা।

এতদিন আন্দোলন কোয়াজুলু নাটাল প্রদেশে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু তা শনিবার (১০ জুলাই) মধ্যরাত থেকে ফ্রি স্টেট ও ঘাউটেং প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। জোহানসবার্গেবের শহরসহ পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড। বিক্ষুব্ধ অনুসারীরা আন্দোলন থেকে বড় মার্কেটগুলোকে নিসানা করে লুটপাট চালাচ্ছে।

এ ঘটনায় শনিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত আলেকজান্ডার, জোহানেসবার্গ সিটি, জেপিস টাউনের, জার্মিস্টন, পিটারমেরিজবার্গ, ফোর্ডসবার্গ, ডেবিটন,  একটনবিলে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে আন্দোলনকারীরা। কোনো কোনো এলাকায় নিরাপত্তা সংস্থার তৎপরতায় লুটপাট থেকে  ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে।

কোয়াজুলু নাটাল প্রাদেশিক পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা জনসাধারণের সঙ্গে সহিংস আচরণ, চুরি, সম্পত্তির ক্ষতি ও ভয় দেখানোর অভিযোগে অভিযুক্ত। এদিকে প্রদেশটিতে আন্দোলনকারীদের লুটপাট প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ সেনাবাহিনী নামানোর কথা ভাবছে।

কোয়াজুলু নাটাল প্রাদেশিক পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিকার বলেছেন, এমপাঞ্জেনি এলাকায় রাস্তাঘাট বিছিন্ন করায় সেখানে পুলিশ ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। আর বাকিদের শুক্রবার রাত ও শনিবার ভোরের মধ্যে মুই নদী অঞ্চলসহ প্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জনসাধারণের উদ্দেশ্যে সর্তকবার্তা জানিয়ে বলেছে, যারা লোকজন জড়ো করে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাতে উৎসাহ দিচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো শুরু করেছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে কোয়াজুলু নাটাল পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা শুরু হয়েছে।

‘ফ্রি জ্যাকব জুমা’ ব্যানারে জুমার অনুসারীরা তার মুক্তির দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার রাতে কোয়াজুলু নাটাল প্রাদেশিক হাইওয়ে একযোগে ২৩টি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বিক্ষোভ আরও বেশি ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। দেশটির কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

গত কয়েকদিনের রাজপথে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তাদের মধ্যে ৬২ জনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে ছয় জন।

এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্যাকব জুমার কারাবাস নিয়ে তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ‘জুমা ফাউন্ডেশন’।

জ্যাকব জুমার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির তদন্তকারীদের তথ্যপ্রমাণ দিয়ে সহযোগিতা না করায় গত ২৯ জুন সকালে আদালত তাকে ১৫ মাসের কারাদণ্ডের রায় দেন। রায়ে পাঁচ দিনের মধ্যে যেকোনো থানায় তাকে অত্মসমর্পণ করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর গত ৮ জুলাই তিনি আত্মসমর্পণ করেন। জুমার আইনজীবী পরিস্থিতি বিবেচনায় সাজা স্থগিত করার জন্য আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে কারাগারে পাঠান।

জ্যাকব জুমা (৭৯) ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) প্রধান ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে দল ও রাষ্ট্র প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। বর্তমান তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতি ১৯টি মামলা বিচারাধীন আছে।