সন্দ্বীপে আপন ভাইদের দায়েরকৃত মিথ্যা ষড়যন্ত্র মূলক ধারাবাহিক মামলা,ভূয়া দলিলে সম্পত্তি আত্মসাৎ, ঘরে ঢুকতে না দেওয়া, ঘরের আসবাবপত্র ও টয়লেট ভাঙ্চুর, স্কুল পড়ুয়া সন্তানদের মামলার আসামী করা,ছোট ভাইয়ের বউ সাজানোর জন্য ৮ ভরি স্বর্ন নিয়ে সেগুলো ১৫ বছরেও ফেরত না দেওয়া,বড় ভাই ও মেঝো ভাই কর্তৃক ১৮ লক্ষের অধিক টাকা আত্মসাৎ সহ সর্বহারা ও নিঃস্ব করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে  নজরুল ইসলাম নামে এক বিদেশ ফেরত।

নজরুল ইসলাম পিতা হাজী নুরুজ্জামান সুকানী হারামিয়া ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্ধা।

নজরুল ইসলাম প্রবাসী টেলিভিশনকে বলেন, আমি জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় বিদেশে কাটিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্টার্জিত টাকা আমার যৌথ পরিবারের আপন তিন ভাই মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোঃ মিজানুর রহমান, সিনিয়র উত্তরা ব্যাংক খাতুনগন্জ শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ ইব্রাহীম ও পূবালী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন। এদের সুখের কথা ভেবে এবং বিশ্বাস করে আমার পিতা ও বড় ভাই ইব্রাহিম বাবুলের কাছে সব টাকা পাঠিয়ে দিতাম।

সে সব টাকা ও পিতার সঞ্চিত কিছু টাকা দিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বেশ কিছু জায়গা ক্রয় করে এবং সন্দ্বীপস্থ বাড়িতে ঘর নির্মান করে। কিন্তু আমি প্রবাসে অবস্থানের সুযোগ নিয়ে আমার তিন ভাই মিলে বয়োবৃদ্ধ ব্রেনস্টক অসুস্থ পিতার অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে সব জায়গা ও ঘর ভুয়া দলিলের মাধ্যমে আপন দুই বোনকে বঞ্চিত করে তারা তাদের মাঝে ভাগাভাগি করে নিয়ে যায়। এছাড়াও আমার ছোট ভাই আনোয়ারের বিয়ের সময় বউ সাজিয়ে আনতে আমার স্ত্রীর ৮ ভরি স্বর্নালংকার ধার স্বরুপ নিয়ে যায়, যা আমাকে পরবর্তীতে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ১৫ বছরেও সেগুলো ফেরত দেয়নি।

আমি প্রবাস থেকে ফেরত এসে এগুলো দাবী করার পর থেকে শুরু হয় আমার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ,থানা ও আদালতে ধারাবাহিক অভিযোগ ও মামলা দায়ের। সেগুলোর একটিও সুস্থ সমাধান হয়নি বরং তাদের টাকার প্রভাব খাটিয়ে সব সমস্যা সমাধান না করে ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে তারা সেগুলোকে ঝুলিয়ে রাখে এবং আমার বসতে ঘরে আমাকে ঢুকতে না দেওযার জন্য দরজার সামনে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে ফেলে। ঘরের ভিতর ও বাহিরে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং স্থানীয় বখাটেদের দিয়ে হুমকি দেয় বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য! নির্মাণাধীন দেয়াল বাধ্য হয়ে আমি সেটি বদলা দিয়ে ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করতে হয়েছে।

এছাড়াও আমার তিনটি টয়লেট ভেঙ্গে ফেলেছে আমার ভাইয়েরা তাই এ ডিজিটাল যুগেও আমি এবং আমার পরিবার সহ ছোট ছোট বাচ্চারা বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ির বাইরে রাত বিরাতে বাথরুমে যেতে হয়। যা অত্যান্ত অমানবিক। আর এগুলোর প্রতিবাদ করতে গেলে তারা একেকবার একেকজন বাদী হয়ে আমার বিরুধ্বে মিথ্যা ও হয়রানি মুলক মামলা করে। সর্বশেষ আমার ভাইয়ের বৌ সুফিয়া বেগমকে দিয়ে আরো একটি মামলা করেছে সন্দ্বীপ সিনিয়র জুডিসিয়াল মেজিস্ট্রেট কোটে। তাই জাতীর বিবেক সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন এ সমস্ত মিথ্যা, বানোয়াট,হয়রানি মুলক মামলা প্রত্যাহার করে আমাদের সম্পত্তি সুষ্ঠ বন্টন করে বাড়িতে, আমার ঘরে,আমাকে সুন্দর ভাবে জীবন যাপনের জন্য আইনগত ভিত্তি অনুযায়ী জীবন যাপন করার সুযোগ করে দেওয়া হউক।

আমি আমার কয়েকজন ছেলে মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি তাই আমার সন্তানদের ভবিষৎ নষ্ট না করে তাদের সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করার সুযোগ না দিলে আমিও পাল্টা মামলার আশ্রয় নেবো। তাই আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের আবেদন সহ আমার ভাগের সম্পত্তি ফেরত চাওয়া ,বড় ও মেঝো ভাই থেকে পাওনা ১৮ লক্ষ টাকা ও ছোট ভাই থেকে ৮ ভরি স্বর্ন এবং জায়গার প্রাপ্য অংশ ফেরত চাই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন বলেন গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬ টায় সবাই যখন সেহেরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে, ঐ সময় নজরুল ইসলাম প্রকাশ আপচার হরিশপুর থেকে ২ জন ক্যাডার এনে হাফেজ মিজানের বারান্দার দেয়াল ও ঘরের উত্তর পাশে আমার জায়গার বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙে ফেলেছে।